বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আগামী তিন মাসের মধ্যে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছতে পারে। এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে চীনের বীমা কোম্পানিগুলোর নতুন করে স্বর্ণ ক্রয়, শুল্কের ঝুঁকি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা বৃদ্ধি। এক প্রতিবেদনে গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক সিটিগ্রুপের গবেষণা শাখা সিটি রিসার্চ। খবর রয়টার্স।
সিটি রিসার্চের বিশ্লেষকরা এক নোটে লিখেছেন, বর্তমানে বাজারে ফিজিক্যাল গোল্ডের (স্বর্ণের গহনা, বার অথবা কয়েন) সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ ঘাটতি দূর করতে স্বর্ণের দাম আরো বাড়াতে হবে যেন ব্যবসায়ীরা মজুদ থেকে স্বর্ণ বিক্রি করতে উৎসাহী হয়।
এর আগে সিটি রিসার্চ আগামী তিন মাসে স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২০০ ডলারে পৌঁছার পূর্বাভাস দিয়েছিল।
ব্যাংকটি জানায়, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণে বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে চাহিদা খনি থেকে উত্তোলনের ১১০ শতাংশে পৌঁছতে পারে, যা ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সর্বোচ্চ।
চীনসহ উদীয়মান অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ ক্রয় বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের কারণে এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) ও ওভার-দ্য-কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।
সিটি রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, চীনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০টি বীমা কোম্পানিকে তাদের মোট সম্পদের ১ শতাংশ পর্যন্ত স্বর্ণ খাতে বিনিয়োগের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ফলে বছরে স্বর্ণের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হতে পারে প্রায় ২৫৫ টন, যা বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত ক্রয়ের এক-চতুর্থাংশের সমান।
আরো জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্ক ঘোষণার পর চীন নতুন করে স্বর্ণ আমদানির কোটা অনুমোদন করেছে এবং আমদানি-আর্বিট্রেজ উইন্ডো পুনরায় চালু করেছে। এতে সামনের মাসগুলোয় আমদানি আরো বাড়বে।
সিটি ব্যাংক বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) জন্য স্বর্ণের গড় মূল্য পূর্বাভাস ৩ হাজার ১০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ২৫০ ডলারে উন্নীত করেছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সরবরাহ ঘাটতি ও চাহিদার ঊর্ধ্বগতি।
প্রতিষ্ঠানটি আরো বলছে, বর্তমান ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির দামের সঙ্গে স্বর্ণ উত্তোলন ব্যয়ের ব্যবধান প্রতি আউন্সে প্রায় ২ হাজার ডলার। এতে স্বর্ণ উত্তোলনকারী কোম্পানিগুলোর মুনাফা আয় বাড়ছে। বিশেষ করে ডলারের বিনিময় হার ও সুদহার কমে যাওয়ার প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটে এটি আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।